বর্তমান যুগে যুব-সমাজের কর্ম-কান্ড ( ছেলে-মেয়েদের অবাধ ভালোবাসা এবং তার করুন পরিস্থিতি )





আজ হয়তো অনেক চড়া চড়া কথা বলে ফেলবো,
তাই শুরুতেই সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

_______তাহলে কাজের কথায় আসি________

[ ক্ষুদ্র একটা গল্প দিয়ে শুরু করি ]

চলুন গল্পের নাম দেই উমমমম,ইয়া
"দিয়াশলাই আর সিগারেট "

ও আচ্ছা নামটা নিয়ে ভাবছেন?
না নাম ঠিক আছে কারন উভয় বস্তু একটি আরেকটির
সাথে সম্পৃক্ত।

দিয়াশলাই শুরুতেই খুব একা ছিলো,তাই তার একাকীত্ব
দূর করার জন্য কাউ কে খুজছিলো।
হঠাৎ তার জীবনে সিগারেটের আগোমন ঘটলো।

দিয়াশলাই তো খুব খুশি অন্য দিকে সিগারেট ও ব্যাপক
আনন্দিত কারন তাকে আগুন দেয়ার মতো কাউ কেই খুঁজে পাচ্ছিলো না।

দিয়াশলাই তার আগুন দিয়ে সিগারেটকে পরিপূরণতা
দান করে যেতে লাগলো।

কিন্তু দিয়াশলাই তো বুঝতে পারলো না যে তার কর্মক্ষমতা বেশিক্ষণ থাকবে না কারন দিয়াশলাই তো
সিগারেটের ভালোবাসায় আনমনা হয়ে গিয়েছিলো।

অপর দিকে সিগারেট তো প্রথম প্রথম ভেবেছিলো যে
দিয়াশলাই কে ব্যবহার শেষে ফেলে দিবে,
কিন্তু সেও ভুলে গিয়েছিলো যে দিয়াশলাই যে তার আগুনে তাকেও সমান ভাগে পুড়েছে।

অবশেষে দিয়াশলাই এবং সিগারেটের পতন ঘটলো।


_____________গল্প থেকে শিক্ষা______________

১)  দিয়াশলাই +সিগারেট =মানুষের আয়ুষ্কাল

২) দিয়াশলাই = মেয়ে
     সিগারেট    = ছেলে

জন্মের পর থেকেই একটা মেয়েকে অনেক কষ্ট বয়ে বেরাতে হয়।
যদি পরিবারে কনো ছেলে সন্তান থাকে তাহলে তো কথাই নাই।

মেয়েরা হলো মা-জাতী তাই তাদের অন্তরটা অনেক নরম হয়ে থাকে,অল্প কষ্টতেই প্রচণ্ড আঘাত পায়।

ইসলামে কখনই কনো পর পুরুষের সাথে বিয়ের পুর্বে
ভালোবাসার সম্পর্ককে জায়েজ করে নাই।

কিন্তু বলা বাহুল্য যে যদি কোনো মেয়ে,
কোনো একটি ছেলের প্রেমে পরে যায় এবং
একটি পর্যায় ছেলেও রাজি হয় তাহলে কি করার?
[ উত্তরটা না হয় আপনারাই দিয়েন ]

আচ্ছা ধরে নেন তাদের সম্পর্ক চলতে থাকলো।
মেয়েটি তার অস্তিত্ব ছেলেটির সাথে আদান-প্রদান করতে
লাগলো।

একটা পর্যায় মেয়েটি, ছেলেটির প্রতি ব্যাপক দূর্বল হয়ে গেলো।
কোনো একটা মুহূর্ত ছেলেটিকে ছাড়া আর ভালো লাগলো না মেয়েটির।

______এইবার শুরু হবে আসল খেলা______

হঠাৎ একদিন আর ছেলেটার খবর নাই।
সে যেন ভেনিস হয়ে গেছে :-P

যদিও মেয়েটার একটা সময়ে ছেলেটার সাথে দেখা হয়
এবং কথাও হয়........

কথাগুলো হয়তো এমনই হবে,

মেয়েঃ কি বেপার তোমার কোনো খবরটবর নাই যে।
ছেলেঃ এমনিতেই !!!!

মেয়েঃ এমনিতেই মানে কি ?  জানো আমি কতোটা
            ভয়ে ছিলাম। প্লিজ এমন করো না আর।
ছেলেঃ দেখ আর সম্ভব না,তোমার সাথে আমার যায় না।
            আমার পরিবার কখনই রাজি হবে না।
            তারা জানতে পারলে আমাকে মাইরাই ফেলাবে।
            প্লিজ আমাকে মাফ করে দিয়ো।

মেয়েঃ এই তুমি কি যাতা বলছো,ঠিক আছো তো তুমি?
           আর তোমাকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো এটা
           তুমি কি করে চিন্তা করতে পারলে।
           সম্ভব না,আমি যে কোনো পরিস্থিতির মোকাবেলা
           করতে প্রস্তুত।
ছেলেঃ দেখো তুমি,ধুর বাল ( এই বলে ছেলেটা চলে
            গেলো)

মেয়েটা সেখানেই ঘন্টাদেড়েক বসে ছিলো,হয়তো ছেলেটা আসবে,এসে তাকে তার বাহু বলে জড়িয়ে নিবে।
কিন্তু না,স্বপ্নটা মিথ্যা ছিলো,ছেলেটি আর ফিরে আসে নি।

____________ভুল গুলো কোথায়_____________

সাধারণ দৃষ্টিতে এখানে কারো কোনো ভুল নেই,
কারন একটা বয়স থাকে, যেখানে আমরা এমন ভুল কাজগুলো করে থাকি।

কিন্তু যদি আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে একটু বদলাই,
তবে সেখানে আমরা কিছু ভুল ধরতে পারবো।

১) মেয়েটি সত্যি সত্যি ছেলেটিকে ভালোবাসেছিলো,
তাই হয়তো ছেলেটির জন্য সবকিছু ত্যাগ করতেও রাজি থাকতো কিন্তু এটা তো ভুল কারন যেই ছেলেটার জন্য মেয়ে এতো কিছু বিসর্জন দিচ্ছিলো,সেই ছেলেটা কি আদো মেয়েটিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে কিনা তা জানাটা বেশি জরুরি ছিলো।

২) এখানে ভালোবাসাটা ছিলো হুট-হাট,তাই হয়তো
এই ভালোবাসা সার্থকতা পাবেও না।

৩) ছেলেটির সম্পর্ক বিচ্ছেদ এর তরিকাও ছিলো ভুল,
কারন কনো মেয়েকে যদি ত্যাক করতেই হয় তবে
তার মাঝে থেকে থাকা ভুলগুলো তুলে ধরতে হবে।
তা না'হলে মেয়েটি হয়তো নিজেকে কখনই ঠিক পথে আনতে পারবে না।

৪) বর্তমানে ভালোবাসা অনেকের কাছে "পুতুল বিয়ে" দেয়ার মতো খেলা হয়ে গেছে।
এখন পছন্দ হলো I Love You,কাজ শেষ হয়ে গেলে
খুব সহজেই বলি I Hate You বাহ খুব ভালো।

আচ্ছা যদি মেয়েটাকে ছেরেই দিবা তাহলে তার "মন"
নিয়ে খেলা না করলেও হতো।
ভাই ঝগড়া সবার মাঝেই হয়,তাই বলে তো আর সম্পর্ক
ছিন্য করা যাবে না।
সমস্যাটাকে সমাধান কিভাবে করা যাবে সেই চিন্তা করতে হবে।

৫) "এখন আর মেয়েটাকে ভালো লাগছে না,ওর কথা ভালো লাগে না,ওর কোনো কাজ এখন আর ভালো লাগে না" অমা কেনরে ভাই একটা সময় তো ওর *পাদ* এ ও বেশ মজা পাইতা এখন কেনো এমন কথা বলছো,
অ ভাই তাহলে কি তুমিও ( থাক বাকিটা আপনারা বুঝে নিয়েন )

৬) সত্যি কথা কি যদি কোনো ছেলে তার "মাকে" কখনই সম্মান করে থাকে তাহলে সেই ছেলে হয়তো কখনই এমন জঘন্য কাজ করতে পারবে না।

কারন একজন "মা" কখনই সন্তানের রূপ দেখেন না,
সে একজন "মা" সেটাই তার কাছে অনেক বড় কিছু।

তাই একটা মেয়ের রূপ না দেখে তার ভালোবাসা এবং
তার অন্তরটাকে সবার আগে দেখতে হবে।

৭) এখনকার ভালোবাসা অনেকটাই "Come First Serve First " এর মতো হয়ে গেছে।
ভালোবাসার শেষ পরিস্থিতি এখন বিছানাতেই অবসান ঘটায়।


তাই বলি ভাইরা আমার,আর কোনো মেয়ের জীবন নিয়ে খেলা করবেন না আর তার থেকেও ভালো হয়
যদি পারেন বিয়ে করে নিয়েন।

আমার এই লেখায় "মেয়ের" অবস্থানে "ছেলে" ও হতে পারে, আর "ছেলের" অবস্থানে "মেয়ে" ও হতে পারে।

সম্পূর্ণ ঘটনাটি নির্ভর করে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির উপর।

আমাদের যুব-সমাজের দায়িত্ব "মেয়েদের" ইজ্জৎ, মান,সম্মানের এর হেফাজত করা,
এবং তাদের সর্ব অবস্থায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

সকলের জন্য শোভ কামনা রইলো,
আর বোনদের প্রতি রইলো আমার অঙ্গিকার।



Comments

Popular posts from this blog

এন্ড্রোয়েড এর চিপসেট (Chipset) এবং প্রসেসর (Processors) নিয়ে যতো সব কিছু, আপনি কোন প্রসেসরটি নির্বাচন করবেন ?

ক্যামেরায় অপটিক্যাল জুম এবং ডিজিটাল জুম কি? উভয়ের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে আলোচনা।

Interaction Control এর মাধমে স্মার্টফোনকে নতুন আকারে অন্যের কাছে তুলে ধরুন